কবিঃ সৌরভ জহিরুল
তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে হবে,হাতে অনেক কাজ,
ছেলে আমার শখ করেছে,চড়বে পঙখীরাজ।
ছেলের প্রথম জন্মদিন আজ,আনন্দ চোখে মুখে!
ধুর ছাই! এ আনন্দের মাঝে কে আবার পথ রুখে?
যমরুপধারী,এগিয়ে এলো গাড়ি,যমদূত তার পাশে,
নিষ্প্রাণ চোখে চেয়ে রইল কুৎসিত ভাবে হেসে
গাড়ি আমায় স্পর্শ করল,যমদূত এলো ধীরে;
অনেক তো থাকা হলো,এবার চল যাই ফিরে!"
ভিক্ষার ন্যায় আবেদন ছিল,"একবার দাও ছেঁড়ে,
মানিক আমার অপেক্ষা করে,বুকে নেব তারে কেড়ে"
"আমি তো কেবল আদেশ মানছি,বলবে যদি কিছু,
শিগগিরই চল ঐ আসমানে,আমার পিছু পিছু।"
হে দয়াময়! কর দয়া,যাব একবার দুনিয়ায়,
মানিক দেখব প্রাণ ভরে,নির্জন নিরালায়"
"ক্ষণিকের তরে শুনলাম আমি,শর্ত হচ্ছে এই
দুনিয়াবাসী সব জেনে গেছে,তুই আর বেঁচে নেই।
অদৃশ্য এক বস্তুরুপে থাকবি দুনিয়ায়,
তখনি ফিরবি;যখনি ডাকব,আয় নীড়ে ফিরে আয়।"
"সব শুনেছি,এবার আমি তবে যাই?"
বাবার জন্য কাঁদতে কাঁদতে এক ফোঁটা ঘুম নাই।"
দূর থেকে দেখে,বাড়ি নিশ্চুপ,একলা কাঁদছে মা!
ছেলে এসে বলে,এইতো আমি,আর কাঁদিস না।"
সামনে তারই আরেল দেহ,সবাই বলছে লাশ!
সাথে বসে তার নির্বাক স্ত্রী,যার সাথে ছিল বাস।
মনের ভেতর চিৎকার আসে,শোনা যায় হাহাকার,
ভুলে যায় সে,আমি আত্মা! আওয়াজ হবে না আর
মানিক আমার ঘুমিয়ে আছে,কি নিষ্পাপ সে মুখ,
একবার দেখেই প্রাণে চলে আসে পৃথিবীর সব সুখ
হঠাৎ শুনি ওপারের ডাক,"এবার চলে আয় ফিরে,
হিসাব নিকাশের দেনাপাওনা আছে কিছু তোকে ঘিরে!
তোর মনের কথা আমার থেকে কে জানে ভাল?
আমার কথা শুনলে পরে মুখ করবি কালো!
কি ভাবছিস,স্বামী হারিয়ে তোর স্ত্রী আছে বিষাদে?
ভুল ভাবছিস! লাভ নেই আশা তে।
আরো একখানা বিয়ে হবে তার,হবে সে রাজরাণী।
তোর ছবি দেখলেও বলবে,এই লোকরে না জানি!
তোর মানিক কথা শিখবে,ডাকবে তারে বাপ,
তখন কেউ কিছু জানবে না;থাকবে না কোন পাপ।
মৃত্যু দিয়ে হয়েছে কি কোন ভুল?
বেঁচে থাকলে এসব দেখে নিজেই চড়তি শুল
জননী তোর আজো কাঁদে,বুক ভাসে কান্নায়,"
"তাইতো বলি,ঘর কেন আমার ডুবে গেছে বন্যায়?
তার থেকে করো হিসাব নিকাশ,ফলাফল দাও হাতে
আকুতি করি,কিছু সুখ দাও,বেদনা ভুলি যাতে।"
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন