Responsive Ads Here

শনিবার, ১১ মার্চ, ২০২৩

কবর চোর - পর্ব ১

G:\Rupok\Archive\7-2017\detective.png
লেখকঃ ইজতিহাদুল আলম মাহমুদ। 

খবরের কাগজের পাতাটা উল্টাল মাহমুদ। সাধারণত খেলার খবর ছাড়া খবরের কাগজের অন্য পাতাগুলো খুব বেশি দেখে না সে। একবার চোখ বুলিয়েই চলে যায়৷
কিন্তু খেলার খবর ছাড়া অন্য কিছু একটা খুবি মনোযোগের সাথেই পড়ছে সে ৷
সিফাতকে ব্যাপারটা একটু অবাক করলো। মাহমুদের থেকে চোখ ফিরিয়ে আবার গল্পের বইয়ের পাতায় চোখ রাখলো সে ৷
বেশ কয়েকদিন হলো শীতকালীন ছুটি শুরু হয়েছে ।ছুটি কাটাতে সিফাত ময়মনসিংহ থেকে এসেছে ঢাকা। মাহমুদই জোরাজুরি করে নিয়ে এসেছে ৷
শীতের সকালটা খুব সুন্দর।সকাল সারে দশটার মতো বাজে। সোনালী সূর্যের আলো ঘরে আসছে জানালার কাঁচ ভেদ করে।

মাহমুদের ঘরটা খুব বেশি বড় না৷ তার পছন্দ মতো জিনিস দিয়ে সাজানো আছে ঘরটা৷ দেয়ালে অনেক পোস্টার আর ছবি টাঙ্গানো ৷ পছন্দের খেলোয়াড়ের ছবিই বেশি৷ এক পাশের দেয়ালে আছে একটা হোয়াইট বোর্ড৷
এক কোনে একটা কম্পিউটার, তার পাশেই একটা বুক শেলফ৷ বেশিরভাগই ডিটেকটিভ গল্পের বই আর গেমের ডিস্কে ভরা বুক সেলফটা৷ ঘরটা অনেক পরিপাটি৷
 
খাটের পাশেই আছে স্টাডি টেবিল ৷ তার সামনের চেয়ারেই বসে পেপার পড়ছে  মাহমুদ।
খবরের কাগজটা নামিয়ে রাখলো মাহমুদ।
“কবর চুরি করেছে”, বলল সে ৷
মাহমুদের কথা শুনে সিফাত বই থেকে চোখ সরাল ৷
আবার বইয়ের পাতায় মনোনিবেশ করল সিফাত ৷
“চুরি কোথায় হল?”
“ধানমন্ডি কবরস্থান”, উত্তর দিল মাহমুদ ৷ মাথা দুলাল সিফাত ৷ “কি করে গার্ডেরা, ঘুমায় নাকি?”, বিরক্তি  প্রকাশ পেল সিফাতের কথায় ৷ আটকাতে পারল না ৷
ভালো ভাবে চেয়ারে হেলান দিলো মাহমুদ ৷ “ধরা পড়ে গিয়েছিল চোরেরা ৷ কিন্তু কি আর করা গার্ডেরা চোরের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারে নি ৷ বেদম মেরেছে বেচারা গার্ডদের”
“হাসপাতালে বসে বাতাস খাচ্ছে নিশ্চয়ই”, মুখে মৃদু হাসি নিয়ে কথার ছলে বললো সিফাত ৷
“তা তো অবশ্যই”, মুখে হাসি নিয়ে বলল মাহমুদ ৷ “মন্দ কি, যে কাজে একদিনও ছুটি নেই৷ মার খাওয়ার অজুহাতে কয়েকদিন ছুটি কাটিয়ে নিবে৷”
“চুরিটা হলো কখন?”

“গতকাল রাত একটা নাগাদ”, বলল মাহমুদ ৷ “পুলিশকে ব্যাপারটা নিয়ে বেশ সিরিয়াস মনে হচ্ছে।”

“সিরিয়াস তো হবেই, এত বড় একটা কবরস্থানে চুরি হয়ে গেলো এখনো চোর ধরতে পারল না”, বলল সিফাত ৷ “পুলিশেরও তো মান সম্মান আছে নাকি!”
 “আসলে কবর চুরি করে কি করে চোরগুলো?”, নিজেকেই যেন প্রশ্ন করলো সিফাত ৷
মাথা নাড়ল মাহমুদ৷ তার কোনও ধারণা নেই এই ব্যাপারে৷ কিছু তো একটা করে ৷

“চোরগুলো এতোকিছু থাকতে কবর কেন চুরি করে তা জানতে হলে এখন বেশ মাথা ঘামাতে হবে”, বলল সিফাত ৷
“ভাবছি তদন্তে নামা যায় কি না”, সিফাতের দিকে তাকিয়ে বলল মাহমুদ ৷

সিফাত হাতের গল্পের বইটা বন্ধ করল ৷ হাতের কাছে নামিয়ে রাখলো ঐটা ৷
“তা করা যায়, হয়তো কিছু বের করা সম্ভব৷ কিন্তু কিভাবে শুরু করা যায় তাই তো বুঝতে পারছি না৷”
ঠোট উল্টাল মাহমুদ।

দরজার নব ঘুরানোর শব্দ শুনতে পেলো মাহমুদ আর সিফাত ৷ দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকলো ওহি ৷
মাহমুদ আর সিফাতের বন্ধু সে ৷ মাহমুদ আর ওহি একসাথেই পড়ে ৷ বেশ লম্বা ও ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী সে ৷

“কি রে খবর কি?”  বলল ওহি ৷

“মোটামোটি, তোর খবর কি?”  বলল সিফাত ৷

ওহি খাটের এক পাশে বসে পড়ল ৷ “কি পড়ছিস?”, মাহমুদকে জিজ্ঞেস করলো ওহি ৷ “আর বলিস না, কবরও নাকি চুরি হয়! তার উপর একটা লেখা পড়ছিলাম আরকি ৷ চোরগুলো মরার পরও শান্তি দিলো না”, হাসল মাহমুদ।

“হুম! খবরের কাগজে আমিও পড়লাম৷ গতকাল রাতের চুরির খবরটা তো আজ সকালেই বের হল”, বলল ওহি ৷
“সাহসে কুলায় কি করে!” বিস্ময় নিয়ে দুই বন্ধুকে বলল মাহমুদ। “একে চুরি করে রাতে তার পর যে সে জিনিস না কবর!”

“চোরগুলাকে বের করা কষ্ট হবে”, বলল ওহি ৷ “গা ঢাকা দিয়ে থাকবে সন্দেহ নেই ৷ যতক্ষণ পর্যন্ত ভুল করে কোন ক্লু ফেলে না যাচ্ছে ,ততক্ষণ চোরগুলোকে খুজে পেতে বেগ পেতে হবে পুলিশের৷”

“হা হা, যদি কোন ক্লু ফেলতেই হয় তাহলে কি বা আর ফেলবে ৷ কোদাল শাবল”, বলে হাসল সিফাত ৷

“তাও ঠিক, কোদাল আর শাবল ধরে কতদূর আর যাওয়া যাবে?”, তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটল ওহির মুখে ৷


আবার খবরের কাগজে মন দিল মাহমুদ ৷ মজার ব্যাপার হলো “চোরেরা একটা কবরই চুরি করেছে”, ঠোঁটে হাসি নিয়ে বলল মাহমুদ।

“তোর কি মনে হয়, ধানমন্ডি কবরস্থান থেকে একটা কবর চুরি করতে যাওয়া বোকামি নয়?”  বলল ওহি ৷

“আমি যা শুনেছি সেখানে নাকি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও অনেক বেশি”, চিন্তিত হয়ে বলল সিফাত৷ “অনেক নামি দামি লোকের কবর সেখানে আছে কি-না”

“ধরে নিলাম কেউ কবর চুরি করে, কারণ সে কবরের ভেতরে যে হাড্ডি-গুড্ডি পাবে সেটা সে বিক্রি করতে চায়”, বলল মাহমুদ৷ “কবরই যখন চুরি করবে তখন ওতো সিকিউরিটির ভিতর দিয়ে চুরি করার দরকার কি? সব কবরে মাল মশলা তো একই থাকার কথা৷? সেটা ধানমন্ডিরই কবরস্থানই হোক বা অন্য কোনোটাই হোক৷ ভুল বলেছি কি?” জিজ্ঞাসু চোখে তাকাল মাহমুদ।

“এই কথাটা ভেবেই তো মনে হচ্ছে কোন একটা ঘাপলা আছে”, বলল সিফাত ৷ “কবরই যখন চুরি করবি তাহলে অন্য কোথাও যা ৷ সব রেখে ধানমন্ডি কেন?”

ঠোঁট উল্টাল মাহমুদ। “জানি না”
“চল একবার ঢু মেরে আসি গিয়ে”, প্রস্তাব করলো ওহি ৷

“সত্যিই কি তোদের ধারণা কোনো ঘাপলা আছে?” দুই বন্ধুর দিকে চোখ ঘোরালো সিফাত৷

মাহমুদ একটু ভেবে বলল, “কেন যেন মনে হচ্ছে ঝামেলা একটা আছে।”
ওহি বলল, “আমি মাহমুদের সাথে একমত”

“আচ্ছা ঠিক আছে চল একবার গিয়ে দেখেই আসি”, বলল মাহমুদ ৷ “পরেরটা পরে দেখা যাবে”

দরজা খোলার শব্দ হলো ৷ দরজা খুলে মাহমুদের খালাত বোন আরশা ঘরে প্রবেশ করলো ৷ হাতে খাবারের ট্রে ৷

সুন্দর গোলগাল চেহারা, গাঁয়ের রং ফর্সা ও লম্বা চুলের অধিকারী আরশা ৷ মাহমুদের চেয়ে কয়েক বছরের বড় হবে মেয়েটা ৷ এখানে থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে সে ৷
খাবার দেখে মাহমুদ হাতের তালু ডলল ৷ মুখে হাসি তার ৷ “এতো দেরি কেন করলি, কতক্ষণ ধরে বসে আছি”
“এইযে? খাবারটা কিন্তু তৈরি করতে হয়”, বলল আরশা ৷ “আর শোন আজকে খালামনি বলে গেছে, আমি যেভাবে বলবো সেভাবে চলতে৷ যতক্ষণ খালামনি না আসছে ততক্ষণ তোকে আমার কথামতো চলতে হবে, বুঝলি?”
মাথা কাত করে চায়ের কাপটা তুলে নিল মাহমুদ ৷ আরশা চলে গেল ৷
পাউরুটির চাকে একটা কামড় বসিয়ে ওহি বলল, “শিশির এর কথা শুনেছিস?”
“কি?”
“তার ইচ্ছা হল একটা গোয়েন্দা দল গঠন করবে”, ঠোঁটে এক চিলতে হাসি নিয়ে বলল
ওহি৷

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন